হয়রানি ও রোগিদের জিম্মি করে প্রতারণার অভিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারীসহ ১৪ দালালকে আটক করেছে র্যাব| বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র্যাব-১৪ কোম্পানি কমান্ডার সামসুজ্জামানের নেতৃত্বে সাদা পোষাকের একটি দল হাসপাতালে অভিযান চালায়| এসময় হাসপাতালের ইমারজেন্সি, মহিলা ওয়ার্ড, পরীক্ষাগার, আউটডোরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে টানা ২ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে প্রথমে ২০ জন দালালকে আটক করে| সুনির্দিষ্ট প্রমান না পাওয়ায় ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়| অভিযান শেষে র্যাবের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান ১ জন নারীসহ ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদন্ডসহ কারাদণ্ড প্রদান করেন|

আটককৃতরা হলেন, নগরীর বাঘমারা এলাকার শফিকুল ইসলাম (৪০), শিলা আক্তার (৫০), জীবন হোসেন (২৮) ও টুটুল আমিন শরীফ (৪০), কৃষ্টপুর এলাকার রফিক আলী (৪৫), কালিকাপুর এলাকার ইমরান বাদশা (৩০), আকুয়া এলাকার মো. আসাদ (৪৭), ঘাগড়া এলাকার আহসান উল্লাহ (৩৭), চরপাড়া এলাকার মনির (৪৫), ভাটিকাশর এলাকার আনিস হোসেন রকি (৪০), মাসকান্দা এলাকার মো. রানা (৩০), ভাটিকান্দা এলাকার সোহাগ মিয়া (৩০), মুক্তাগাছা উপজেলার মনির হোসেন (৩৭) এবং কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুরের আক্তারুজ্জামান (৩১)| এসময় দালালদের সঙ্গে থাকা মোবাইলগুলো জব্দ করা হয়| তবে এমন অভিযান সবসময় দরকার বলে মনে করেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগি ও তাদের স্বজনরা|

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালের দালাল-প্রতারক চক্রকে ধরতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে| বৃহত্তর ময়মনসিংহের অসহায় সাধারণ মানুষ যখন হাসপাতালে সেবা নিতে আসে তখন সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে চক্রটি নানাভাবে রোগি এবং তাদের স্বজনদের হয়রানি করে আসছিল| জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে|

র্যাব-১৪’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুজ্জামান বলেন, আটককৃতরা হাসপাতালটিকে চারদিকে ব্লক করে রেখেছিল| গ্রামাঞ্চল থেকে হাসপাতালে রোগী আসলে তাদের টার্গেট করা হতো| পরে বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে রোগি ও তাদের স্বজনদের বেকায়দায় ফেলে টাকা হাতিয়ে নিত| মূলত এই চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির লক্ষ্যে আমাদের এই অভিযান কার্যক্রম|

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, এক হাজার শয্যার বিপরীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গড়ে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার রোগী ভর্তি থাকে| যাদের বেশিরভাগ সেবা নিতে এসে বিভিন্ন সময় দালালদের খপ্পরে পড়ে| এই অভিযানে ফলে দালালদের দৌরাত্ম কিছুটা হলেও কমবে| কারণ আমাদের পক্ষে বাহিরে কি হচ্ছে না হচ্ছে সবসময় লক্ষ্য রাখা সম্ভব নয়|
তিনি আরও বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষজনকেও আরও সচেতন হতে হবে| কারণ হাসপাতালের বিকল্প বেসরকারি কিøনিক হাসপাতাল হতে পারে না|


-1200x675.jpg&w=3840&q=75)




