আসামি হয়ে পালিয়ে থাকার এক মাস পর বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের মালপত্র, জমির দলিল ও পুকুরের মাছ, গোয়ালের গরু লুট হয়ে গেছে। অভিযোগ, বাড়িতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ধান-চাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হালুয়াঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের খন্দকপাড়া এলাকায়। এই ঘটনায় বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে আসামিপক্ষ। তবে বাদীপক্ষের দাবি, তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধে গত ১ সেপ্টেম্বর শাহেদ আলী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন ভুক্তভোগীর ছেলে রফিকুল ইসলাম। আসামিরা হলেনু বাবুল হোসেন, রহমত আলী, দুলাল মিয়া, মঞ্জুরুল ইসলাম, হৃদয়, মেহেদী, আরশাদ আলী ও মেহের বানু।
তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর বাকিরা গত বুধবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। মামলার পর আসামিপক্ষের কয়েকজন গ্রেপ্তার এড়াতে প্রায় এক মাস বাড়ির বাইরে ছিলেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন হয় গত বুধবার। পরে শুক্রবার বাড়িতে ফেরেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এদিন বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরে তারা দেখতে পান ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা এবং দরজায় অন্য একটি তালা ঝুলছে। পরে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন ধান-চাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালপত্র নেই। একই সঙ্গে জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। আসামিপক্ষের অভিযোগ, বাড়ির খড়েরপালা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুকুরের মাছও ধরে নিয়ে গেছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে এসব ঘটনা ঘটেছে।
মামলার আসামি মেহের বানু বলেন, ‘আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি। মামলা হওয়ার পর প্রায় এক মাস বাড়িতে থাকতে পারিনি। এখন বাড়িতে এসে দেখি ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা। ঘরে থাকা অনেক মালপত্র নেই। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে থাকব তা বুঝতে পারছি না।’
বারেকের মেয়ে সুফিয়া বেগম জানান, তার স্বামী বিদেশে থাকেন। ঘরে থাকা তার গয়না, টাকা-পয়সা ও ধানসহ বিভিন্ন মালপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। জমির দলিলপত্রও নেই। পুকুরের মাছও লুট করা হয়েছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান তিনি।
ভুক্তভোগী আরশাদ আলীও ঘর থেকে মালপত্র লুটের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে দেখি ঘরের অবস্থা এমন। আমাদের যা ছিল, অনেক কিছুই নেই। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
তবে আসামিপক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাদীপক্ষ। নিহত শাহেদ আলীর স্ত্রী রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের লোক মারা গেছেন। আমরা শোকের মধ্যে আছি। অন্যের ঘরবাড়ির মালপত্রের প্রতি আমাদের কোনো লোভ নেই। যেদিন আমার স্বামীকে মারছে, সেদিন বাড়িতে অনেক মানুষ এসেছিল। বাইরের কেউ কিছু নিয়ে থাকলে সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
চারটি গরু তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে থাকার বিষয়ে রোকেয়া খাতুন বলেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলার আসামিরা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় গরুগুলোর দেখভাল ও খাওয়ানোর ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো সেখানে বেঁধে রাখা হয়েছে। এটা ভুল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিজেরাই বাবার মৃত্যুর শোক সামলাতে পারছি না। কেন আমরা অন্যের ঘরের জিনিস নিতে যাব? বাইরে থেকে কেউ নিয়ে গেল কিনা, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।’
হালুয়াঘাট থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে জানা নেই।’







