জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ ভেঙ্গে চাপা পড়ে ঘুমন্ত মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দাগী এলাকার মৃত আব্দুল গনি মণ্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৬৫), তার দুই মেয়ে ফরিদা আক্তার (৪০) ও ফতে আক্তার (৩৭)। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে মেলান্দহ থানার ওসি উবায়দুর রহমান জানান, খুকি বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। ছোট মেয়ে ফরিদা বেগম স্বামী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন। কয়েক দিন আগে তিনি অসুস্থ মাকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। গত রোববার রাতে মা ও দুই বোন একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষে একই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। রাত গভীর হলে হঠাৎ শুরু হয় দমকা হাওয়া ও বৈশাখী ঝড়। একপর্যায়ে ঘরের পাশের একটি বড় মেহগনি গাছ উপড়ে টিনের বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা তিনজনই গাছের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের সদস্যরাও আসেন। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুকি বেগমের স্বামী ছিলেন একজন কৃষক। বেশ কিছুদিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়। এর পর থেকেই পরিবারের হাল ধরেন সন্তানেরা। বড় মেয়ে ফাতে বেগমের অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই সংসার টেকেনি। পরে তিনি মায়ের কাছেই ফিরে আসেন। ছোট মেয়ে ফরিদা বেগমের বিয়ে হয়েছিল পাশের উপজেলা ইসলামপুরে। পরে স্বামী-সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। কয়েক দিন আগে অসুস্থ মাকে দেখতে গ্রামের বাড়িতে আসেন।
খুকি বেগমের ছোট ছেলে আহলু মিয়া বলেন, ঘরটির পেছন দিকে একটি বড় গাছ ছিল। ঝড়ে সেই গাছ উপড়ে সরাসরি ঘরের ওপর এসে পড়ে। গাছটি একদম বিছানার ওপরেই পড়েছিল। সেখানেই মা আর দুই বোনের মৃত্যু হয়। ঝড়ের সময় তাঁরা কিছুই বুঝতে পারেননি। সকালে উঠে এ অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান। পরে সবাই মিলে গাছ আর ভাঙা ঘরের নিচ থেকে তাঁদের লাশ বের করেন। এ ঘটনার পর দাগী গ্রামের পাকা সড়কে মানুষের ভিড় জমে। বাড়ির উঠানের এক পাশে পাশাপাশি রাখা হয়েছে তিনটি খাটিয়া। অল্প দূরেই পড়ে আছে উপড়ে পড়া বিশাল গাছটি। তার নিচে লন্ডভন্ড হয়ে আছে টিনশেডের ঘর। ঘরের চাল, বাঁশের খুঁটি আর টিনের বেড়া ছড়িয়ে আছে চারদিকে।
এবিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।





