রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের একদম শেষ মুহূর্তে এসে বাজিমাত করল কানাডা। যোগ করা সময়ের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজকরা। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলোর টিকিট কাটার পাশাপাশি নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথমবার বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বের দ্বিতীয় ধাপে পা রাখল কানাডা।
রোববার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ার পথে ছিল। তবে ৯১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে কানাডার ইতিহাস লেখা নিশ্চিত করেন মিডফিল্ডার স্টিভেন ইউস্টাকিও। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। এর আগে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে আরও দুবার বিশ্বকাপ খেললেও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি কানাডা। এবার গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে শেষ বত্রিশের পরীক্ষাও সফলভাবে উতরে গেল দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে বেশি ধার ছিল কানাডার। প্রথম ডিহাইড্রেশন ব্রেকের আগপর্যন্ত ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখে প্রোটিয়ারা। তবে কানাডা এরই মধ্যে তিনটি শট নেয়। ম্যাচের ২২তম মিনিটে কানাডার ডেরেক কর্নেলিউস খুব কাছ থেকে হেড নিলেও তা সোজাসুজি চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামসের হাতে।
৪৪তম মিনিটে লিড প্রায় পেয়েই গিয়েছিল কানাডা। ময়জে বোমবিতোর হেড যখন জালে জড়াচ্ছিল, গোলকিপার উইলিয়ামস তখন লাইনের বাইরে ছিলেন। তবে লাইনের ভেতরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বল ক্লিয়ার করে দলকে বাঁচান দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার অব্রে মদিবা। একই আক্রমণের ফিরতি শটটিও ঠেকিয়ে দেন প্রোটিয়া গোলকিপার।
প্রথমার্ধের বিরতির বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে পেনাল্টি দাবি করেছিল কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাও বলের লড়াইয়ে লারিয়াকে ফাউল করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিরতির বাঁশি বাজতেই ক্ষোভ নিয়ে মাঠেই রেফারির দিকে ছুটে যান কানাডা কোচ জেসি মার্শ। তবে রেফারি এবং পরবর্তীতে ভিএআর পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দিলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। ৬৫তম মিনিটে জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত একটি শট পা বাড়িয়ে রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার উইলিয়ামস। ওই সেভের পর ফিরতি বলে আবারও গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রোটিয়া ডিফেন্ডার এমবোকাজি তা ক্লিয়ার করেন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল এবং সবাই ধরে নিয়েছিল লড়াই যাবে ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন স্টিভেন ইউস্টাকিও। ৯১তম মিনিটে তার করা চমৎকার গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো কানাডা শিবির। বাকি সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ম্যাচে ফিরতে না পারলে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জেসি মার্শের শিষ্যরা।





