প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পেশাগত ও জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছে সরকার।

শনিবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ২৯০ তম শাখার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-১ হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী। এসময় সাবেক অতিরিক্ত সচিব রেভা রানী সাহা, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ও ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোশাররফ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, দেশে ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সম্মান, উন্নয়ন ও আত্ম নির্ভরশীলতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছি। তিনি বলেন, সরকারের কৃষি কার্ড, হেল্থ কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড সবাইকে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো জাতি ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদ থাকবে না।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী পেশাগত উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছি। নার্সিং ও বিউটি পার্লারে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহজ ঋণ দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ময়মনসিংহ-১ হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। কর্মসংস্থান ব্যাংক এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আশার আলো হয়ে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব রেভা রানী সাহা তাঁর বক্তব্যে ২৯১ তম শাখাটি হালুয়াঘাটে স্থাপন করার অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ঋণ গ্রহণ এবং পরিশোধ করার মাধ্যমে অন্যদের সুযোগ করে দিতে হবে।
কর্মসংস্থান ব্যাংকের পরিচালক সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, ফি ল্যান্সিং, সেবামুলক কর্ম, কৃষি ভিত্তিক উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ গ্রহণ করে সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার চৌধুরী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক জামানত বিহীন ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এই ব্যাংক থেকে ১৩ লাখ ঋণ গ্রহীতার মধ্য দিয়ে ৪৬ লাখ উপকারভোগী রয়েছে। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে ধোবাউড়াকে বেকারমুক্ত করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণ নিয়ে মানুষ উপকৃত হবে। এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।
পরে চারজন ঋণ গ্রহীতার মাঝে চেক বিতরণ করা হয়।





