ময়মনসিংহের ফুলপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক আশ্রব আলী (৭৫) হত্যা মামলায় একই পরিবারের তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত| সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ফারাহানা ফেরদৌস এই রায় দেন|
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন নূর হোসেন (৫৭), তাঁর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩২) ও সোহরাব আলীর ছেলে সহিদুল ইসলাম (৩৭)| মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে| যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সোহরাব আলী (৬৪), তাঁর স্ত্রী স্বরূপা খাতুন (৫৭) ও নূর হোসেনের স্ত্রী রেহানা খাতুন (৫৪)| যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিনজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়| দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাড়ি ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের দেওখালী গ্রামে|
আদালতের সংক্ষিপ্ত বিবরণী সূত্রে জানা যায়, দেওখালী গ্রামের বাসিন্দা আশ্রব আলীর সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল| বিরোধের জের ধরে ধরে ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ভোরে জমিতে চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেন| এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে জুলহাস উদ্দিন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন| জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে| ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত|
ছয় আসামির উপস্থিতিতে আজ বিচারক রায় ঘোষণা করেন| এ সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের একজন বলেন, ‘আমরা খুন করিনি|’ পরে আসামিদের আদালত থেকে বের করে নেওয়ার সময় মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া উজ্জ্বল মিয়া বলতে থাকেন, ‘এই খুনডা আমরা করছি না, তারা করছে| থানা থেকে, ডিবি থেকে রেপোর্ট দিছে, এই খুন তারা করছে, এই খুনডা আমরা করছি না|’ পুলিশ হেফাজতে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি আরও বলতে থাকেন, ‘তিনটা রিপোর্ট করছে, তারা (খুন) করছে, আর একটা রিপোর্ট করছে আমরা খুন করছি| তিনটা রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা হয়, আমরার সাজা হয় না|’
যাবজ্জীবন সাজা হওয়া সোহরাব উদ্দিনের ছোট ভাই রেজাউল করিম বলেন, ‘নিজেরা মাইরা আইন্যা আমার ভাইয়ের বাড়ির পাশে রাইখ্যা কইছে মাইরালছে| লাশ দেইখা আমার ভাইয়েরা বাড়িত থাইকা পলাইছে| আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব| আমরা দেখব, মিথ্যা ঘটনা কের লাইগা করল| আমরা ন্যায়বিচার পাই নাই| আমরা সূক্ষ্ম বিচার যেখানে পাই, সেখানে যাব|’
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদী জুলহাস মিয়া বলেন, ‘জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে ঝামেলা চলছিল| ঘটনার দিন আমার বাবা জমিতে চাষ করতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমার বাবাকে খুন করা হয়| দীর্ঘ ১৩ বছর পর আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট| আসামিদের ফাঁসি যেন দ্রুত কার্যকর হয়, সেই দাবি জানাই|’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকরাম হোসেন বলেন, ‘এই মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে| সাক্ষ্যুপ্রমাণে এ মামলায় আমরা প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছি| এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে|’ মামালায় রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকরাম হোসেন ও অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান আসামী পক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন|


-400x300.jpg&w=3840&q=75)


