জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি উপজেলার মানুষ স্বল্প খরচে, নিরাপদ ও সহজে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে কমবে ভোগান্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৯১২ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে ১৯১৮ সালে শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নেত্রকোনার রেলপথের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আজও হয়নি। সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও গত ১০৮ বছরেও জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত মাত্র ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন হয়নি। তবে দীর্ঘদিন পর সরকারের নতুন উদ্যোগে রেললাইন সম্প্রসারণ ও জারিয়া পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৯১২ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে ১৯১৮ সালে শ্যামগঞ্জ থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল হয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রেলওয়ে কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণের জন্য জমিও অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধসহ নানা কারণে প্রকল্পটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি উপজেলার মানুষ স্বল্প খরচে, নিরাপদ ও সহজে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে কমবে ভোগান্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।
এ দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন এলাকাবাসী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে রেললাইন সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ জারিয়া স্টেশন ও সম্ভাব্য রেললাইন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষার কাজও চলছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-গৌরীপুর রুটে চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেন জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ে ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) চিঠি পাঠিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোবারক হোসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেশন পরিদর্শন করছেন। রেললাইন সম্প্রসারণ এবং আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। ’
তিনি জানান, বর্তমানে ময়মনসিংহ-জারিয়া রুটে প্রতিদিন চারটি লোকাল ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ থেকে তিনশটি টিকিট বিক্রি হয়। এছাড়া ঢাকা থেকে চলাচলকারী ‘বলাকা’ কমিউটার ট্রেনের প্রায় ৩০০টি আসনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।






