জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর বাল্য স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে এবার জাতীয় পর্যায়ে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে| আগামী ২৫ মে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| প্রায় দুই দশক পর ত্রিশালে এত বৃহৎ পরিসরে জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ| আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কথা মাথায় রেখে এবারের অনুষ্ঠানমালার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে| কবির মূল জন্মবার্ষিকী ২৫ মে হলেও উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২১ মে থেকে|
পাঁচ দিনব্যাপী চলবে ঐতিহ্যবাহী নজরুল মেলা, স্মারক আলোচনা সভা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান| ২৫ মে সমাপনী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন|
তথ্যমতে, ১৯১৪ সালে কিশোর নজরুলকে আসানসোল থেকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে এসেছিলেন দারোগা কাজী রফিজউল্লাহ| পরে তিনি দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন| দরিরামপুর হাইস্কুল থেকে শুরু করে এই মাটির ধূলিকণায় মিশে আছে কবির শৈশবের স্মৃতি|
ত্রিশালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নজরুল জয়ন্তীর মূল জাতীয় অনুষ্ঠান যেন কবির স্মৃতিধন্য এই জনপদেই উদযাপন করা হয়| স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা.মাহবুবুর রহমান লিটন এর নিরলস প্রচেষ্টায় এবার সেই গণদাবির বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে| প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে|
স্থানীয় সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ ও অনুষ্ঠানস্থলের সংস্কার কাজ এখন পুরোদমে চলছে| সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও তদারকি করছেন| সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ত্রিশালে স্মরণকালের সবচেয়ে জমকালো ও উৎসবমুখর নজরুল জয়ন্তী উদযাপিত হতে যাচ্ছে|




