ভারতের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে কৃষকরা পড়েছেন চরম ক্ষতির মুখে।
বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজীরভিটা ইউনিয়ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পৌর শহরের বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলেও পানি ঢুকে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে এবং ভাঙা অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দেখেন, বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পরে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির প্রবাহ বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
কৃষকরাও চরম উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের দাবি, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা থাকলেও হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে পাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আ. রশিদ বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা রেজাউল আলম বলেন, কয়েক ঘণ্টার টানা ঢলে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকায় দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং দুটি কাঁচা সড়ক ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। দ্রুত ত্রাণ বিতরণ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।




