ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানাধীন বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জনৈক জহিরুল ইসলাম রনির পুত্র আন্দালিব সাদমান রাফি (০৮) নিখোঁজের পর সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় মুল আাসমি গ্রেফতার হয়েছে| গত ০৮ মে রাফিকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুম ও মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল|
ঘটনার সংবাদ পেয়ে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে| তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী খোকনকে (২১) গ্রেফতার করা হয়| সে মুক্তাগাছা উপজেলার জমিনপুর গ্রামের মোঃ বারেকের ছেলে| গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির স্যানিটারি টয়লেটের স্লাবের নিচ হতে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু আন্দালিব সাদমান রাফির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়| এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নাইলনের রশি এবং মুক্তিপণ দাবির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়|
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মৃতের পিতা জহিরুল ইসলাম রনির সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী খোকনের পূর্বের টাকা-পয়সার লেনদেনজনিত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে পানিতে ডুবিয়ে, ঘাড় মটকিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়| পরবর্তীতে হত্যার আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মৃতদেহ বস্তাবন্দি করে টয়লেটের স্লাবের নিচে গুম করা হয় এবং পরিবারের নিকট মুক্তিপণ দাবি করা হয়|
এ ঘটনায় ০৪ জনকে এজাহারনামীয় আসামী করে মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে| ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে| ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর|




