ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের অভিযানে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আশরাফুল ইসলাম মামুন (৩৮) নামে এক যুবক গ্রেফতার হয়েছে। জুয়া প্রতিরোধ আইনে গ্রেফতার হওয়া যুবক হঠাৎ বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে।

কথিত জুয়াড়ি মামুন সদর উপজেলার চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের দিগলাপাড়া গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী আব্দুল খালেকের ছেলে।
আজ রোববার সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো: মাহাবুবুর রহমান এই জুয়াড়ি গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, আশরাফুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি জুয়া প্রতিরোধ আইনে ময়মনসিংহে দায়ের হওয়া প্রথম মামলা। এ ঘটনায় সিআইডি প্রতিবেদন হাতে পেলে মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা দায়ের হবে।

ডিবি পুলিশ জানায়, ২ জুলাই রাতে নগরীর শম্ভুগঞ্জ মাছ এলাকার থেকে গ্রেফতার হয় মামুন। এ ঘটনার পরদিন জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গোয়েন্দা পুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানে গোপন সংবাদে শম্ভুগঞ্জ মাছ বাজার এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিপুল পরিমান টাকা লেনদেনের সময় পালানোর চেষ্টাকালে আশরাফুল আলাম মামুন গ্রেফতার হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি রেডমি নোট ১২ প্রো মোন জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল ঘেটে অনলাইন জুয়ার ৯৩ টি স্ক্রীনশট, ওয়ান এক্স বেট, মেলবেটসহ একাধিক অনলাইন বেটিং এ্যাপস এবং অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে আশরাফুল আলাম মামুন গ্রেফতারে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসি জানায়, মামুন দুই বছর আগে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল। সেখান থেকে ফিরে ল্যাংড়া বাজারে মোবাইল রিচার্জের দোকান দেয়। এরপর থেকে নিয়মিত তার দোকানে অপরিচিত তরুনদের ভীড় লেগেই থাকতো। এভাবেই হঠাৎ মাত্র ২ থেকে ৩ বছরের ব্যবধানে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিত্তবৈভবের উত্থান ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মামুন দুই বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও নগদ টাকার মালিক| গড়ে তুলেছেন ১৬ শতাংশ জমিতে বিশাল বাইন্ডারি দিয়ে তিন তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি, ১৮ শতাংশ জমিতে গরুর খামার| তাতে রয়েছে ৫০ টি ষাড় গরু| এছাড়াও ৫ শতাংশ জমির উপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিজের নিরাপত্তার জন্য খামারের চেম্বারে রাখেন উন্নত মানের বন্দুকসহ দেশিয় অস্ত্র।
এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবু বকর সিদ্দিক ইমরান বলেন, অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ত মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে|






