নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা চিকিৎসক সায়মা আক্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন| ফোনে ও সামাজিকমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার মদন থানায় জিডি করেন তিনি|
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ এপ্রিল শিশুটি তার চেম্বারে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন| গত ৩ মে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি থেকে তাকে গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে| এরপর থেকেই তিনি নিজের এবং পরিবারের বিষয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন|
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপ-পরিদর্শক আখতারুজ্জামান জানান, শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে| শিশুটি এবং তার মা জানিয়েছে, মাদ্রাসার শিক্ষক সাগর এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত|
মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডাক্তার সায়মা আক্তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন| বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি|’ এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত|
নেত্রকোনা থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ভোর ৪টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪| বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে নেত্রকোনা আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে|
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষক সাগরকে বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে|




