পুরো ৯২ বছরের অপেক্ষা, ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই এবং শেষ মুহূর্তের স্নায়ুযুদ্ধুসব পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল মিসর। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কাটল মিশর। এর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে খেলে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিল তারা। প্রায় এক শতক পর সেই পুরোনো হতাশার ইতিহাস বদলে নতুন রূপকথা লিখল মোহাম্মদ সালাহর দল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল মিসরের স্বপ্নের মতো। ১৩ মিনিটেই ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণে এগিয়ে যায় তারা। সালাহর ছোট পাস থেকে ইমান আশুরের প্রথম শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও, ফিরতি বল বক্সে ভাসলে নিখুঁত হেডে জাল খুঁজে নেন আশুর। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিসর। ইতিহাস গড়া থেকে তখন মাত্র ৪৫ মিনিট দূরে তারা।
তবে ৫৫ মিনিটে ভাগ্যদেবী মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মিসরের মোহাম্মদ হানি। এই আত্মঘাতী গোলে ১-১ সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে মিসরের একটি অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যান অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও কোনো দল গোল করতে না পারায় স্কোরলাইন ১-১ থাকে। টাইব্রেকারের ঠিক আগমুহূর্তে পেনাল্টি ঠেকাতে ওস্তাদ ম্যাথু রায়ানের ওপর ভরসা করে গোলরক্ষক বদলায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু লাভ হয়নি।
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর খতিয়ান
অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া প্রথম শটটি বারের ওপর দিয়ে মারেন হ্যারি শুটার। মিসরের প্রথম শটে মাহমুদ সাবের গোল করলে মিসর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয় শটে অস্ট্রেলিয়ার জ্যাকসন আরবিন এবং মিসরের রামি রাবিয়াুউভয়েই গোল করলে স্কোর দাঁড়ায় মিসর ২-১ অস্ট্রেলিয়া।
তৃতীয় শটে অস্ট্রেলিয়ার আওয়ার মাবিল এবং মিসরের মোহাম্মদ সালাহ গোল করায় ব্যবধান হয় ৩-২।
চতুর্থ শটে অস্ট্রেলিয়ার লুকাস হেরিংটনের শট বারে লেগে মিস হয়। এরপর মিসরের আবদেল মাগিদ নিজের শটে গোল করতে ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে উল্লাসে মাতে মিসর। পঞ্চম শটের আর প্রয়োজন হয়নি।
অন্যদিকে, ২০০২ সালের পর প্রথম এএফসি দল হিসেবে নকআউট জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে বিদায় নিতে হলো অস্ট্রেলিয়াকে।






