শেষ ৩২-এর ম্যাচে জার্মানিকে যে ছকে বিদায় করেছিল, ফ্রান্সের বিপক্ষেও সেই ৫-৪-১ ফর্মেশনের দেওয়াল তুলে মাঠে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ফরাসিদের আটকে রাখলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ভিএআর নাটকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।
শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল সম্পূর্ণ গোলশূন্য। শুরু থেকে বল পজিশন ধরে রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে প্রথম ২০ মিনিটে কোনো শটই নিতে পারেনি ফ্রান্স। ১৯৬৬ সালের পর এ নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে শটহীন কাটাল তারা। ৩১ মিনিটে এমবাপ্পের হেড মিস এবং ৩২ মিনিটে রাবিওর শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরই মাঝে মাঠে এমবাপ্পেকে পেছন থেকে আন্দ্রেস কুবাস টেনে ধরলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঠুকাঠুকি লেগে যায়, যা রেফারি শান্ত করেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্স রেকর্ড ২০টি ক্রস করলেও প্যারাগুয়ের বক্সে ঢুকতে পেরেছে মাত্র ৪ বার।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করে ফ্রান্স। গোলকিপার মাইনানের লম্বা পাস ধরে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে এমবাপ্পে বল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে তা রক্ষা করেন। ঠিক পরের মুহূর্তে দেম্বেলের শট পাশের জালে জড়ায়। এর দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে কোনের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে কর্নার করেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙার মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ৬৬ মিনিটে। পেনাল্টি এরিয়ায় ফ্রান্সের বদলি খেলোয়াড় দুয়েকে ফাউল করে বসেন প্যারাগুয়ের দিয়োগো গোমেজ। রেফারি প্রথমে সাড়া না দিলেও ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ৭০ মিনিটে সফল স্পটকিকে গোলকিপারকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে পোস্টের ডান দিক দিয়ে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সমান ৭ম গোলের দেখা পেলেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির করা ২০ গোলের চেয়ে এখন মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন এমবাপ্পে (১৯ গোল)।
ম্যাচের শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে এমবাপ্পের শট রুখে দিয়ে ফ্রান্সের লিড দ্বিগুণ করতে দেননি প্যারাগুয়ে কিপার গিল। ঠিক পরের মিনিটে (৯০ মিনিটে) প্যারাগুয়ের বদলি মিডফিল্ডার মাউরিসিওর এক নিচু শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দিয়ে ফ্রান্সের লিড ধরে রাখেন গোলকিপার মাইক মাইনান। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯০+৬ মিনিট) পরপর দুবার এমবাপ্পের গতিময় শট অবিশ্বাস্যভাবে আটকে দেন গিল। তবে আক্রমণের শেষ চেষ্টা করেও সমতা ফেরাতে পারেনি প্যারাগুয়ে, ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্লুজরা।






