লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলো নিশ্চিত করার হাইভোল্টেজ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ দাপট দেখিয়ে স্বস্তির এক জয় নিয়ে নকআউটের প্রথম পর্ব পার করল ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের এই দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল এবং অন্য গোলটি এসেছে ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর পা থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে স্পেন। প্রথমার্ধের প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত দুই দলই চেষ্টা করলেও সুযোগ তৈরির দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল স্পেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। মার্ক কুকুরেয়ার নিখুঁত পাস থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
অবশ্য এর আগে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরপরই জোরালো শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, কিন্তু কর্নার থেকে বল আসার সময় স্পেনের একজন খেলোয়াড় অস্ট্রীয় গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল করায় রেফারি সেই গোলটি বাতিল করে দেন। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক ও গোলপোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে প্রথমার্ধেই গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
বিরতির পর দ্বিতীয় গোলের খোঁজে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় স্পেন। ৫৭ মিনিট পর্যন্ত স্পেনের বলের দখল ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। অবশেষে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় গোল। আলেক্স বায়েনার চমৎকার ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো।
ম্যাচের শেষ দিকে, ৮৯ মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে কুকুরেয়া-ওইয়ারসাবাল জুটি। দলীয় আক্রমণ থেকে বক্সে বল বাড়ান কুকুরেয়া। সেখানে আনমার্কড অবস্থায় থাকা ওইয়ারসাবাল আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে স্পেনের ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। এটি বিশ্বকাপে ওইয়ারসাবালের চতুর্থ গোল।
পুরো ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল স্পেন। ম্যাচজুড়ে তারা প্রতিপক্ষের পোস্টে ২৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষ্যভেদী।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়া পুরো ম্যাচে মাত্র ৫টি শট নিতে পেরেছিল, যার একটিও স্পেনের গোলপোস্টের লক্ষ্যে ছিল না। পুরো ম্যাচজুড়ে অস্ট্রিয়া স্পেনের রক্ষণভাগে তেমন কোনো বিপদই তৈরি করতে পারেনি।
এই ম্যাচে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন গড়েছেন এক অনন্য কীর্তি। ম্যাচের ৫৭ মিনিটের সময় বিশ্বকাপে টানা ৪৮৬ মিনিট কোনো গোল হজম না করার নতুন ইতিহাস লেখেন তিনি। এই মাইলফলক স্পর্শ করার পথে তিনি আর্জেন্টিনার সের্হিও রোমেরোকে ছাড়িয়ে যান। এর ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলরক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘতম সময় গোল না খাওয়ার তালিকায় এখন তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন সিমোন।
তা ছাড়া, এই ম্যাচ পর্যন্ত গোল না হজম করায় স্পেন টানা চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার যৌথ রেকর্ড স্পর্শ করেছে (যা তারা ২০১০ সালেও করেছিল)। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের তালিকায় ৪টি ক্লিন শিট নিয়ে সবার ওপরে আছেন মেক্সিকোর রাউল রাঙ্গেল। স্পেনের উনাই সিমোনের ঝুলিতে এখন ৩টি ক্লিন শিট, তবে রাঙ্গেলের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেই এই কীর্তি গড়েছেন সিমোন।
২০২৩ সালের ২৮ মার্চ স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হওয়ার পর থেকে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে আর হারেনি স্পেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই জয়ের পর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড ধরে রাখল তারা। প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগ না দেওয়া এবং শক্তিশালী রক্ষণ স্পেনের এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।






