অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়, কল্পনাতীত- আরো অনেক বিশেষণই হয়তো ব্যবহার করা যায়। তবে সব ছাপিয়ে পাগলাটে এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো মায়ামি স্টেডিয়াম। চ্যাম্পিয়নদের সাথে চোখ রাঙিয়ে লড়াই করলো কেপ ভার্দে।
তবে ফলাফলটা পক্ষে আনতে পারলো না আফ্রিকান দেশটা। পাল্লা দিয়ে সমানে-সমান লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে পরাস্ত হয়েছে তারা। অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চে ৩-২ গোলে হেরে থেমেছে কেপ ভার্দে রূপকথা।
রেফারির শেষ বাঁশিতে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল আর্জেন্টিনা। অভিষেক আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস নাটকের পর অবশেষে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

ডালাসের এই ম্যাচে মাঠে নামতে দুই নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড ৩০তম ম্যাচ এবং ২৭তম বারের মতো শুরুর একাদশে নামার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।
ম্যাচের শুরুটা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দাপট দিয়ে হলেও ইতিবাচক ফুটবল খেলছিল কেপ ভার্দেও। ম্যাচের প্রথম ২৬ মিনিটে খুব বেশি সুযোগ তৈরি না হওয়ায় গোলশূন্য অবস্থায় হাইড্রেশন ব্রেকে যায় দুই দল।
এরপর ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে বল জালের ছাদে পাঠান মেসি। এটি বিশ্বকাপে মেসির ২০তম এবং চলতি আসরে ৭ম গোল। এই এক মুহূর্তের জাদুতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আলবিসেলেস্তেরা।

দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দেয়াল ভাঙতে পারছিলেন না মেসিরা। ৬৩ মিনিটে মেসির একা পেয়ে যাওয়া শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকান ভোজিনিয়া। এরপর ৭৩ মিনিটে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিকও বিদ্যুৎগতিতে পজিশন ঠিক করে রুখে দেন তিনি।
উল্টো ৫৯ মিনিটে মেন্দেসের পাস থেকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নজর এড়িয়ে বল পান লারোস দুয়ার্তে। দ্রুত এগিয়ে আসা লিসান্দ্রো মার্তিনেসের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে এবং এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা।
ম্যাক্সিমাম নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩ মিনিটে কর্নার থেকে দূরের পোস্টে বল পেয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ জোরালো বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কিন্তু কেপ ভার্দেও দমে যায়নি। সিডনি কাবরাল বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে কাট করে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে দূরের ওপরের পোস্টে বল জড়িয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান।
টাইব্রেকারের শঙ্কা যখন জেঁকে বসছে, ঠিক তখন ১১১ মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল। বাঁ দিক থেকে মেসির নেওয়া কর্নারে শক্তিশালী হেড করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বলটি কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে ঢুকলে তা আত্মঘাতী গোল হিসেবে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে জমা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা তাদের তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে দাপটের সঙ্গে নকআউট পর্বে উঠেছিল। চলতি বিশ্বকাপে কেবল আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও ফ্রান্স এই তিনটি দল গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে।






