শটে, কর্নারে কিংবা প্রতিপক্ষের বক্সে আনাগোনায় ম্যাচের সব পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কানাডা। তবে ফুটবল যে কেবল আধিপত্যের নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর খেলা, সেটি আরও একবার প্রমাণ করল মরক্কো। গোলমুখে মাত্র চারটি অন-টার্গেট শট নিয়ে তার তিনটিকে গোলে পরিণত করে সহআয়োজক কানাডাকে ৩-০ ব্যবধানে বিদায় করে দিয়েছে তারা। আর এই জয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ২০২২ আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধের চিত্র ছিল স্কোরলাইনের ঠিক উল্টো। প্রথম ২৫ মিনিটে মরক্কো প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি। বিপরীতে জোনাথন ডেভিড ও তানি ওলুওয়াসেয়িরা একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনুর দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত থাকে কানাডা। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আফ্রিকান লায়নরা। ৫০তম মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে, বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে মরক্কোকে এগিয়ে নেন আজ্জেদিন উনাহি। গোল হজম করে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। তবে তাদের একের পর এক আক্রমণ ভেস্তে যায় বুনু ও মরক্কোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তায়। ৭৯তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে বুকানান গোলের খুব কাছে গেলেও আবারও দুর্দান্ত সেভ করেন বুনু।
কানাডা যখন অল-আউট আক্রমণে খেলছিল, ঠিক তখনই নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাকে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে নেয় মরক্কো। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন উনাহি। আর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে (৯০+৮ মিনিট) আবারও সেই দিয়াজের অ্যাসিস্ট থেকে গোল উৎসব পূর্ণ করেন বদলি হিসেবে নামা সুফিয়ান রাহিমি।
পুরো ম্যাচে কানাডা যেখানে ১০টি শট নিয়েছে, মরক্কো নিয়েছে ৫টি (যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে)। মরক্কো যেখানে কানাডার বক্সে মাত্র ১০ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছে, কানাডা সেখানে করেছে ৩২ বার। এমনকি মরক্কোর মাত্র ১টি কর্নারের বিপরীতে কানাডা আদায় করে নিয়েছিল ১১টি কর্নার। তবে এত আধিপত্যের পরও শেষ হাসি হেসেছে মরক্কোই। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ আটে উঠে আবারও বড় কিছুর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল।






